খানাখন্দে ভরা যেন এক একটি পুকুর: ওসমানীনগরে ভাড়েরা-নাগের কোনা সড়কে দূর্ভোগ 

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

মোঃ আব্দুর রকিব আনু,
ওসমানীনগর::

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ‘ভাড়েরা-নাগের কোনা’ সড়কটি এখন স্থানীয় জনসাধারণের জন্য এক চরম ভোগান্তির নাম। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটির পিচ ও খোয়া পুরোপুরি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল খানাখন্দের। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি যেন ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। তাজপুর- নাগের কোনা ৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ৩ কিলোমিটার খানা খন্দের রাস্তা এখন গলার কাটা।

​সরেজমিন চিত্রে দেখা যায়, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজেহাল যে,  রিকশা, সিএনজি-অটোরিকশা কিংবা ইজি-বাইক (টমটম)—কোনো যানবাহনই এই সড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। যাত্রী বোঝাই যানবাহনগুলো উল্টে যাওয়ার চরম ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে এই খানাখন্দ পার হচ্ছে। কাদাপানিতে গর্তের গভীরতা পরিমাপ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিনিয়তই এখানে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।  ভাড়েরা- নাগের কোনা’ সড়কটি ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ দুই উপজেলার সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে। দুই উপজেলার শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সড়কটি ব্যবহার করেন। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তার গর্তে জমে থাকা পানি গাড়ির চাকার সাথে উঠে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পোষাকও নষ্ট করছে। এদিকে, এই সড়কটি দিয়ে দুই উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে আসছেন। তবে, ওসমানীনগর উপজেলার অংশে  তাজপুর থেকে নাগের কোনা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এখন সময়ের দাবি এমনটিই স্থানীয়দের অভিমত।

​ভোগান্তির শিকার সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক ও সচিব মোঃ আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- এই রাস্তাটি আমার মরহুম পিতা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ  ১৯৮২ সালে বাড়েরা-নাগের কোনাবাসীর তাজপুরের সাথে যোগাযোগের জন্য জমির আইলের উপর মাটি ভরাট করে রাস্তায় রূপান্তর করেন। এম ইলিয়াস আলী এমপি হওয়ার পরে এই রাস্তাটি সোজা করেন এবং পাকা করনের কাজ করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে আমাদের এই রাস্তার বেহাল অবস্থা।

স্থানীয় শেখ ফুরুক মিয়া রাস্তাটি সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন-​বিশেষ করে এলাকার বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও এখন এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো রাস্তায় কাদা আর নোংরা পানি জমে থাকায় সাধারণ পথচারীদের হেঁটে যাওয়ার কোনো সুযোগই অবশিষ্ট নেই। তিনি সিলেট ২ আসন ওসমানীনগর বিশ্বনাথের বর্তমান এমপি তাহসিনা রুশদির লোনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এলাকাবাসীর অবর্ণনীয় দুর্দশা লাগোবে যেন জরুরী সংস্কারের পদক্ষেপ নেন। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে ও হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ‘ভাড়েরা-নাগের কোনা’ সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ও জোর দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্মকর্তা এস.এম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,   আপাতত কোন বরাদ্দ নেই, তবে অর্থবছরের জুন মাস শেষে নতুন বরাদ্দ এলে বাড়েরা নাগেরকুনা রাস্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর