জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: 6:24 PM, September 27, 2026

জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

জামালগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ এর আওতাধীন “সাচনা বাজার লঞ্চঘাট ও শুল্ক আদায় কেন্দ্র’র ইজারাদার জিয়াউর রহমান এবং তার লোকজন কর্তৃক অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের অন্তর্গত গজারিয়া নামক এলাকায় এলসি, বার্দিং চার্জ আদায় কেন্দ্র ঘাটের ইজারাদার ওয়াহিদ আলী ও তার গডফাদার শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান, শফিক মিয়া ও মাসুক চেয়ারম্যান কর্তৃক অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন কমসূচী পালিত হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও নৌ-শ্রমিক সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সাচনাবাজার টু লালপুর গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদী পথে সরকার নিধারিত টোল প্রতি ঘনফুট পাথর ৫০ পয়সার স্থলে ২.৮০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালু ২৫ পয়সার স্থলে ১.৩০ পয়সা পরিবহনকারী নৌকা থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজী, হয়রানী ও শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা না হলে জামালগঞ্জ নৌ শ্রমিক-মিল ক্র্যাশার
ব্যবসায়িরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিশাল সমাবেশ করারও হুশিয়ারী দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন মন্ত্রালয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দির লোকজন অবৈধভাবে সাচনা টু লালপুর নদী পথে চানপুর,লালপুর,লক্ষীপুর
নামকস্থানে বালু-পাথরবাহী লোড-আনলোড
চলন্ত নৌকা আটকিয়ে ৫০ পয়সার স্থলে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের দেয়া টোল চার্টের চেয়ে অতিরিক্ত ২.৮০ পয়সা করে দুইবার টোল আদায় করছে। এদিকে ইজারাদার কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জেলা কার্গো-ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন ও জামালগঞ্জ স্টিলবডি নৌ পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে হয়রানি সহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে।

শ্রমিক ও ব্যবসায়িরা বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রালয়ের গেজেট ও টোল চার্টে স্পষ্টভাবে বালি,মাটি,পাথর,
কয়লা ইত্যাদি যে সকল দ্রব্য সামগ্রীর পরিমাণ ঘনফুট/ঘনমিটারে নির্ধারিত হয় তা জাহাজ/বার্জ/নৌকা হতে (২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে) জেটিতে বা ফোরশোরে বা যানবাহনে বা অন্য কোন জাহাজ/ভেসেল/ফ্ল্যাট/বার্জ/লঞ্চ/নৌকায় মালামাল উঠানো বা নামানোর জন্য (২০০ মিটারের অধিক প্রতি ৫০ মিটারের জন্য ০.০৫ টাকা প্রতি ঘন মিটার) উল্লেখ রয়েছে কিন্তু নদী পথে পরিবহনকৃত প্রতি ঘনফুট পাথরে যেখানে ৫০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুতে ২৫ পয়সা করে টোল আদায় করার কথা থাকলেও ইজারাদাররা প্রতি ঘনফুট পাথরে ২.৮০ পয়সা করে লোড আনলোড নৌকা থেকে দুইবারে ৫ টাকা ৬০ পয়সা এবং বালু থেকে ২৫ পয়সার স্থলে ১.৩০ পয়সা টোল আদায় করছে। যে কারণে সুনামগঞ্জ ০১ আসনের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ি কর্মসংস্থান হারিয়ে মানব বেতর জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে নির্ধারিত টোল আদায় কেন্দ্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা চালকদের জিম্মি করে ভাসমান অবস্থায় নদীর তিনটি স্থানে টোল আদায় করে যাচ্ছে। যারা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও রশিদ না দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে । অবিলম্বে নদীপথে টোল আদায়ের নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,শ্রমিক হয়রানী ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম,
ব্যবসায়ি জয়দর আলী, লোকমান হোসেন,রহমগীর, মিল ব্যবসায়ি নবী নুর,নৌ শ্রমিক রফিকুল ইসলাম,করিম হোসেন কবীর,ওমর ফারুক,জুয়েল,শাহজালাল,আল আমিন,আউশাল আজম প্রমুখ।

ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি জানান, সরকার আমাদেরকে যে রেট দিয়েছে। সেভাবেই আদায় করছি। প্রতি ঘনফুট পাথর ও বালুর টোল টেক্স এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, প্রতি ঘনফুট পাথর ২.৮০ পয়সা এবং বালু ৩০ পয়সা করে টোল আদায় করছি। আমাদের ঘাটে অতিরিক্ত কোন টোল আদায় করা হয় না।

জামালগঞ্জ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সাচনা টু লালপুর গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদী পথে টোল আদায়ের বিষয়ে উভয়ের মধ্যে সমযোতা হয়েছিল। তবে কেউ যদি অতিরিক্ত টোল আদায় করে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।##

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর