ঢাকা |
প্রকাশিত: 5:53 PM, October 22, 2026
বিজয়ের কন্ঠ ডেস্কঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। পুলিশের তৎপরতায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিস্কিটসহ একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল ও গাড়ির আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা। এ ঘটনায় জুয়েল আহমদ (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া (৩৫) পালিয়ে গেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের এ অভিযান একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮ নম্বর তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকি গ্রামে আব্দুল হকের স-মিলের সামনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাসের দিকনির্দেশনায় এসআই মোঃ শাহাব উদ্দিন খান ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে কনস্টেবল শ্যামল মিয়া, জামির হোসেন ও লোকমান মিয়া অংশ নেন।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সালুটিকর বাজার পয়েন্টে রাত্রিকালীন পিকেট ডিউটি চলাকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাকের অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ পায় পুলিশ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের নির্দেশনায় দ্রুত অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
২২ অক্টোবর রাত ১২টা ১০ মিনিটে এসআই মোঃ শাহাব উদ্দিন খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি ভারতীয় পণ্যবোঝাই ড্রাম ট্রাক দেখতে পান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় জুয়েল আহমদকে আটক করা হয়। অপর অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া কৌশলে পালিয়ে যান।
আটক জুয়েল আহমদ উপজেলার লাকি পূর্বপাড়া গ্রামের কাচা মিয়ার ছেলে। পলাতক আনোয়ার মিয়া একই এলাকার লাকি মাঝপাড়া গ্রামের মুহিবুর মিয়ার ছেলে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, আটক জুয়েল আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ট্রাকের পেছনে ভারতীয় বিস্কিট থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে পলাতক আনোয়ার মিয়াকে জব্দকৃত মালামালের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। তবে বিস্কিটের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
পরবর্তীতে ট্রাক তল্লাশি করে ১৭৭ কার্টুন MALKIST CRACKER BISCUITS উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি কার্টুনে ৬০ প্যাকেট করে মোট ১০ হাজার ৬২০ প্যাকেট বিস্কিট ছিল। এসব বিস্কিটের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১৮ কার্টুন OREO CHOCO CREME SANDWICH BISCUIT উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি কার্টুনে ১২০ প্যাকেট করে মোট ২ হাজার ১৬০ প্যাকেট বিস্কিট ছিল। এসব বিস্কিটের আনুমানিক মূল্য ৪৩ হাজার ২০০ টাকা।
অভিযানে সিলেট মেট্রো-ট-১১-০১৪৯ নম্বরের একটি পুরোনো TIPPER TATA 2018 মডেলের ড্রাম ট্রাকও জব্দ করা হয়। ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১৯৫ কার্টুনে ১২ হাজার ৭৮০ প্যাকেট ভারতীয় বিস্কিট ও ট্রাকের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে উদ্ধারকৃত মালামাল গণনা করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে জব্দকৃত মালামাল ও আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এসআই মোঃ শাহাব উদ্দিন খান বাদী হয়ে আটক জুয়েল আহমদ ও পলাতক আনোয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি) ও ২৫ডি ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর জন্য গোয়াইনঘাট থানায় এজাহার দাখিল করেন।
পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় বিস্কিট বাংলাদেশে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চোরাচালান প্রতিরোধে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাসের বিষয়ে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধে তিনি বদ্ধপরিকর। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও আইনানুগ অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় চোরাচালান প্রতিরোধে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এ অভিযান পুলিশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সনজিৎ চন্দ্র দাসের দিকনির্দেশনায় এসআই মোঃ শাহাব উদ্দিন খান ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সমন্বিত তৎপরতায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের এমন দায়িত্বশীল ও পেশাদার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host