সিলেটে আসকের সম্মেলন

প্রকাশিত: 1:52 PM, December 1, 2019

সিলেটে আসকের সম্মেলন

 

ডেস্ক প্রতিবেদন : সিলেটে মানবাধিকার সংস্থা আসকের সম্মেলনে মানুষের অধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা সরকারের পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত বেসরকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আনন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। আসক ফাউন্ডেশন এর সিলেট বিভাগ’র পরিচালক মোঃ রকিব আল মাহমুদ’র সভাপতিত্বে ও সিলেটের বিভাগীয় সাংগঠনিক সুমন ইসলাম পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ, মামুনুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
সর্বস্তরের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ প্রণয়ন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে। সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নসহ মানবাধিকার রক্ষায় দেশ ও দেশের বাইরে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে আসকের বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সিলেটে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মোঃ আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন।
বক্তারা বলেন,মানুষের জীবন, অধিকার, সমতা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ সুবিধাগুলিই মানবাধিকার। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। অধিকারগুলি কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়। সেখানে মানুষের মৌলিক মানবাধিকারগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। মানবধিকার রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলায়ত, গীতা পাঠ, জাতীয় সংগীত এর মাধ্যমে অধিবেশন শুরু করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আসক ফাউন্ডেশন মহানগর শাখার সভাপতি এডঃ সাইফুর রহমান খন্দকার রানা প্রমুখ।
জাতীয় মানবাধিকার কী ও কেন নিয়ে সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশন শুরু থেকে আইনি সহযোগীতা সহ মানুষের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষায় সংগঠনের সকল সদস্যকে আরো বেশি কাজ করার উপর তাগিদ দেওয়া হয়।এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
বক্তারা বলেন, মানবাধিকার রক্ষা এবং তার উন্নয়নের প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র তার প্রশাসন, বিচার ও আইন বিভাগের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গঠন করে। রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত হলেও জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাধীনভাবে কাজ করে। বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরকারকে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের তদনেন্তর মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারকে পরামর্শ প্রদান করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর