অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির লক্ষ্য নতুন বাজেটে

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির লক্ষ্য নতুন বাজেটে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিজয়ের কণ্ঠ :

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে পেশ হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং রাজস্ব ঘাটতি দূরীকরণে বিশেষ কৌশলের প্রতিফলন থাকছে এবারের বাজেটে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি পাস হলে তা হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকার কথা রয়েছে।

এছাড়াও, দেশের ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জনজীবনে স্বস্তি আনতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। অর্থবিভাগ জানিয়েছে, এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে অনলাইনে আনার অংশ হিসেবে কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল ও সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব আসতে পারে।

নতুন বাজেটে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর থাকছে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি বিবিএস-এর সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এখন ৩ হাজার ২০ ডলার এবং অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের কথা মাথায় রেখেই এবারের বাজেট দেওয়া হচ্ছে।

তবে অর্থনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা সফল করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য অন্যতম পরীক্ষা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির প্রস্তাব এসেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার খাতের ভর্তুকি সামলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির গতি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ মোকাবিলা করেই সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর