সুনামগঞ্জের গৌরারংয়ে যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: 9:33 PM, August 29, 2026

সুনামগঞ্জের গৌরারংয়ে যুবকের আত্মহত্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামে এমরান হোসেন (২২) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত এমরান হোসেন বেড়াজালী গ্রামের আব্দুল হাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন এমরান। রাতে তিনি নিজ কক্ষে ছিলেন। ভোরে তাঁর মা সাহেরা বেগম ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খুলে বাইরে আসেন। এ সময় তিনি অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেয়ে ভয় পেয়ে স্বামী আব্দুল হাশেমকে ডাকেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এমরানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

বাজার কমিটির সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, বাজারে তার ও পানির মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি একজন ব্যবসায়ী আমাকে জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকেও অবহিত করা হয়। পরে এ বিষয়ে সালিশের জন্য শুক্রবার দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহত এমরান হোসেন স্বাক্ষীদের জবানবন্দীতে অভিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু এমরানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি করার অপচেষ্টা চলছে-এমন সংবাদ আমাদের কানে এসেছে। এতে আমরা সালিশকারীরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। তারপরও আমরা নিহত এমরান হোসেনের আত্মার শান্তি কামনা করি।

মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও সালিশ ব্যক্তিত্ব আসক আলী বলেন, বাজারের একটি চুরির ঘটনা নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের মধ্যে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করা হবে। এর আগেই শনিবার অভিযুক্ত এমরান হোসেন আত্মহত্যা করে মারা যান। এখন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানসহ সালিশদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এভাবে সালিশদের হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে মানসম্মানের ভয়ে কেউ সালিশে বসতে আগ্রহী হবেন না।

গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, এমরান হোসেন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর উপার্জনের ওপর পরিবারের ৫-৬ জন সদস্য নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর