ঢাকা |
প্রকাশিত: 9:36 PM, August 29, 2026
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড আর সেই শিক্ষা গ্রহণের পথ দেখান একজন শিক্ষক। তাই শিক্ষক সমাজে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয়। দীর্ঘ ৩৬ বছর শিক্ষকতা জীবন শেষে সরকারি বিধি অনুযায়ী অবসরে গেলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী ভট্টাচার্য।
শনিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় জগজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাঁকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নার্গিস বেগম। ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন রশীদ, অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নমীতা সরকার, কাঠইর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী নুরুল হক নোমান, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম, ছাব্বির আহমদ, এমরান হোসাইন, ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়জুল ইসলাম, সদর উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রমজান হোসাইন, স্কুলের সাবেক ছাত্র দিনার আহমদ, রবিউল হাসান রবি, তোফায়েল আহমেদ ও রুয়েল আহমদ।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাহমিদা বেগম। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবরিনা বেগম ও ছিদরাতুল মুনতাহা।
বক্তারা বলেন, জয়শ্রী ভট্টাচার্য একজন কৃতী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। তিনি কখনো দায়িত্বে অবহেলা করেননি। নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। এমনকি প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি এ এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তাই এলাকাবাসী ও তাঁর সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন। বক্তারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জয়শ্রী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯০ সালে চাকুরীজীবনে প্রবেশ করি এবং এই এলাকায় আসি, তখন সময়টা ২০০৮ সাল। তখনকার সময়টা এত সহজ ছিল না। বন্যা হলে রাস্তা ডুবে যেত। আমি ছিলাম বাগানের মেয়ে, হাওরের জীবন সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় আমার কষ্ট দেখে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এগিয়ে আসতেন। কেউ আমার ব্যাগ নিয়ে নিতেন, কেউ ছাতা ধরে সহযোগিতা করতেন। আজ এসবই স্মৃতি।’
জয়শ্রী ভট্টাচার্য আরও বলেন, তাঁর অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এ এলাকায় তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছেন। বিদায়বেলায় পরিচিত মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মায়াময় মুখগুলো তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এ সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী শিক্ষিকার কান্না দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেককেও আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানান। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয় এবং গলায় পুষ্পমাল্য পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।
পরে শতাধিক উপহারসামগ্রী ও প্রায় ১০-১৫টি কেক কাটার মধ্য দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা পরবর্তী দুপুরের খাবার শেষে সাবেক শিক্ষার্থীদের দেওয়া গাড়িতে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সুনামগঞ্জ শহরের নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা দেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী ভট্টাচার্য।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host